
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি
আঁকা বাঁকা পথের সাথে সুউচ্চ পাহাড় আর সুবিশাল জলরাশি যেনো চোখ ফেরাতে দেয়না রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে। নিস্তব্ধতার এক পাহাড় আর পানি অবারিত নীল জলের কাপ্তাই লেক যেনো রাঙ্গামাটিকে দিয়েছে অপরূপ এক রূপ। স্বচ্ছ জলের বুকে ভেসে পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চলে যান রাঙ্গামাটির পথে। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাঙ্গামাটি জেলা।এই রূপে মুগ্ধ হতে এবারে Sports Tourism Bangladesh যাবে প্রকৃতির রানী রাঙ্গামাটি তে।
💠রাঙ্গামাটি যেসব জায়গা আপনাকে মুগ্ধ করবে
রূপের রানী রাঙামাটির প্রতিটি জায়গা ই আপনাকে মুগ্ধ করবে তার সৌন্দর্যে।
-কাপ্তাই লেক:
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম লেক। এই লেক টি তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে রাঙামাটির অনেকাংশ কে আবির্ভুত করে রেখেছে। কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে রাঙামাটি জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি ডুবে যায় এবং এ হ্রদের সৃষ্টি হয়।
এই কাপ্তাই লেক কে ঘিরেই মূলত রাঙামাটির পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে শুরু করে রাজবন বিহার ,শুভলং ঝর্ণা সবটায় কাপ্তাই লেক কে ঘিরে। কাপ্তাই লেক এ বোটে করে রাঙামাটির সবগুলো পর্যটন এলাকায় ঘুরে যায়।
-শুভলং ঝর্ণা:শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত উঁচু পাহাড়ি ঝর্ণা।এই ঝর্ণা বর্ষায় তার আসল রূপ ফিরে পায়। শুভলং ঝর্ণাটি কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁষে অবস্থা করে। বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আঁছড়ে পড়ে কাপ্তাই হ্রদের জলে গিয়ে মিশে যায়। শুভলং ঝর্ণায় পর্যটক দেড় টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হয়।
– ঝুলন্ত ব্রিজ:

ছোট বেলা থেকেই ক্যালেন্ডারের পাতায় ঝুলন্ত সেতুর ছবি দেখেননি খুব কম মানুষ ই আছে। রাঙামাটি জেলার ল্যান্ডমার্ক আইকন হচ্ছে ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত এই ৩৩৫ ফুট লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ ‘সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি’ হিসাবে খ্যাত।পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এর পাশেই এই সেতুর অবস্থান। ২ দিকের ২ টি নয়ানিভিরাম পাহাড়কে জুড়ে দিয়েছে এই ঝুলন্ত সেতু। ঝুলন্ত সেতুর ওপারে পাহাড়িদের গ্রাম রয়েছে যেখানে তারা খুব সুন্দর পাহাড়ি বাজার নিয়ে বসে। সেখানে পাহাড়িদের নিজেদের ঐতিহ্য বাহী অনেক জিনিস পাওয়া যায়।
– নেভী ক্যাম্প: কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প খুব ই সুন্দর ও সবুজে ঘেরা একটি পর্যটন স্থান যা নৌবাহিনীদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরী করা। অসম্ভব সুন্দর ও মনোরম এই নেভি ক্যাম্পটি। এখানে নৌ যুগে অথবা গাড়িতে করেও যাওয়া যায়। পাহাড়ের উঁচু নিচু রাস্তা র কাপ্তাই লেক এর সৌন্দর্যে মন্ডিত এই নেভি ক্যাম্প।
–পলওয়েল পার্ক:রাঙামাটি জেলা পুলিশ এর তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁষে পলওয়েল পার্ক টি তৈরী করা। এখানে রয়েছে খুবই সুন্দর একটি পার্ক, একটু ছোট ঝুলন্ত ব্রিজ , পলওয়েল রিসোর্ট,লাভ লক পয়েন্ট এবং পিকনিক স্পট সহ আরো অনেক বিনোদন এর ব্যবস্থা । পলওয়েল এ বসে সোন্দর সূর্যোদয় দেখতে অনেক ভালো লাগে।
-রাজবন বিহার: রাজবন বিহার বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাঙামাটি শহরের অদূরেই অবস্থিত।প্রতিবছর পূর্ণিমা তিথিতে রাজবন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।এখানে প্রতিবছর অনেক বোরো করে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব পালন করা হয়। রাজবন বিহার বাংলাদেশের অন্যতম বৌদ্ধ তীর্থ স্থান। পর্যটকদের বিহার চত্ত্বরে মাথায় টুপি, বোরকা কিংবা ঘোমটা এবং পায়ে সেন্ডেল, জুতা ইত্যাদি পরে প্রবেশ নিষেধ।
রাঙ্গামাটি কীভাবে যাবেন?
ঢাকা সায়েদাবাদ, কলাবাগান, ফকিরাপুল অথবা গাবতলি থেকে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসে করে যেতে পারবেন রাঙ্গামাটি। সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাস ছাড়ে।
রাঙ্গামাটি নৌ-ভ্রমণে যেতে চাইলে
সারাদিনের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করতে হয়। নৌকার চালকই আপনাকে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখাবে। চাইলে আলাদাভাবেও যেতে পারেন। খুব সকালে যাত্রা শুরু করাই ভালো। রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার এলাকা থেকে অথবা পর্যটন এলাকা থেকে ট্রলার রিজার্ভ করা যায়। এগুলোর ভাড়া আকার অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
রাঙ্গামাটি কোথায় থাকবেন
রাঙ্গামাটি বেশ কিছু হোটেল মোটেল এবং হ্রদে ভাসমান হাউজ বোটে আপনি থাকতে পারেন।
রাঙ্গামাটি খাবার ব্যবস্থা
রাঙামাটি জেলার প্রধান খাবার হলো পাহাড়ি মুরগির মাংস, গুই সাপের মাংস, পুঁইশাক,বুঝা শাখ, বাশ কোড়াল, ও ইত্যাদী এই খাবারগুলো এখানকার খুব জনপ্রিয় খাবার। এবং রাঙ্গামাটির সব থেকে বিখ্যাত খাবার হলো বাশ ভাত।
কাপ্তাই লেকের মাঝে অনেক গুলো পাহাড়ি রেস্টুরেন্ট আছে ,সেগুলো তে পাহাড়ি খাবার সহ বাঙালি খাবার ও পাওয়া যায়। তবে এই রেস্টুরেন্ট গুলো তে অবশ্যই নৌকা যুগে যেতে হয়।
💠রাঙ্গামাটি ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনা:
রাঙ্গামাটি তে সাধারণত ডে ট্যুরে ও যাওয়া যায় আবার চাইলে ২/৩ দিন হোটেলে বা হাউসবোটে ও থেকে রাঙামাটির অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।এখানে আমাদের একটি ডে ট্যুরের ভ্রমণ বিস্তারিত দেয়া হলো:
প্রথম দিন রাতের বাসে করে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।
দ্বিতীয় দিন ভোরেই রাঙ্গামাটি পৌঁছে যাবো। আমরা গাড়ী থেকে নেমে নাস্তা করে বোটে উঠে যাবো। সকাল দুপুর পুরোটাই আমরা লেকে সহ শুভলং ঝর্ণা, ঝুলন্ত ব্রীজ এভাবে একে একে উল্লেখিত সবগুলো স্পট ঘুরবো। লেকে এবং ঝর্ণাতে ঝাপাঝাপি হবে ইচ্ছামত। পলওয়েল পার্কে কায়াকিং করবো। সন্ধ্যায় কাপ্তাই লেকে সূর্য ডুবা দেখতে দেখতে কাপ্তাইয়ের বুকে কিছুক্ষণ ভেসে থাকবো। নৌকা থেকে নেমে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি ও কেনাকাটা করে রাতের খাবার খেয়ে উঠে পড়বো বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে।
পরেরদিন সকালে ঢাকা থাকবো।
রাঙ্গামাটি ইভেন্ট খরচে যা যা অন্তর্ভুক্ত:
💠ঢাকা – রাঙ্গামাটি – ঢাকা বাস (নন এসি)
💠৩ বেলা খাবার
💠লেকে ঘুরার নৌকা ভাড়া
যা যা থাকছে না:
⭕ইভেন্ট খরচ ব্যতীত নিজের ব্যক্তিগত খরচ
⭕যেকোন এন্ট্রি ফি
⭕কায়াকিং ফি
⭕হাইওয়ে হোটেলের খাবার খরচ।
⭕কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে-
১. ভ্রমণের সময় যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হই নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করব।
২. অবস্থা পরিপেক্ষিতে যে কোনো সময়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে যেটা আমরা সকলে মিলে ঠিক করব।
ভ্রমণের অনেক উটকো ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্সীর মাদ্ধমে ভ্রমণ করতে দেশের সবচেয়ে ফিমেল ফ্রেন্ডলি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল এজেন্সী Sports Tourism Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ,ভ্রমণকে সুন্দর ও আনন্দদায়ক করায় আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ভিসা ও এয়ার টিকেট জানতে ও সহযোগিতার জন্য ভিজিট করুন আমাদের পেজ :https://www.facebook.com/sportstourismbd
এবং কল করুন : 01820-109 109