টাঙ্গুয়ার হাওড় 

টাঙ্গুয়ার হাওড় 

টাঙ্গুয়ার হাওড় বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১২৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। এই হাওড় টি বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি যেন এক বিশাল সমুদ্র আর মাঝে ডুবে থাকা গ্রামগুলো যেন সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট ছোট্ট দ্বীপ। স্থানীয় লোকজনের কাছে টাঙ্গুয়ার হাওড় টি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত।বর্ষায় এখানে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে নৌকার প্রয়োজন হয়। 

টাঙ্গুয়ার হাওড় এর অবস্থান ও পরিচিতি

টাঙ্গুয়ার হাওড় সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে প্রায় ৩০টির ও বেশি ঝর্ণা এসে মিশেছে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান হিসাবে পরিচয়, প্রথমটি সুন্দরবন।২০০০ সালে এটিকে প্রথম রামসার স্থান  হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওড়ের সমন্বয়ে ১২,৬৬৫ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ বসতি ও কৃষিজমি। হাওর এলাকার ভেতরে ও তীরে ৮৮টি গ্রাম আছে।

টাঙ্গুয়ার হাওড় পর্যটকদের কাছে অবশ্যয় দর্শনীয় একটি স্থান 

টাঙ্গুয়ার হাওড় ভ্রমণের উপযুক্ত সময় 

টাঙ্গুয়ার হাওড় বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে সব থেকে পছন্দের একটি জায়গা। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। বর্ষাকালে হাওড়ের পানি বেড়ে ৩ গুন হয়ে যায় ,তাই এই সময় হাওড়ে নৌকা নিয়ে ঘুরতে অন্যরকম প্রশান্তি মেলে।তাই জুলাই থেকে অক্টোবর একদম উপযুক্ত সময় টাঙ্গুয়ার হাওড় ভ্রমণের। তবে শীত কালেও টাঙ্গুয়ার হাওড় এর ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ মিলে। শীতের অতিথি পাখিদের দেখার উদ্দেশ্যে মানুষজন টাঙ্গুয়ার হাওড় এ ভ্রমণে যায়। 

টাঙ্গুয়ার হাওড় এর দর্শনীয় স্থানসমূহ 

 

একজন প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণপ্রেমীর জন্য পুরো টাঙ্গুয়ার হাওড়ই দর্শনীয় স্থান। চারদিকে এতো সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গুয়ার হাওড়।যেমন :

১.নীলাদ্রি লেক 

২.বারিক্কা টিলা 

৩.ওয়াচ টাওয়ার 

৪.শিমুল বাগান 

৫.সোয়াম্প ফরেস্ট 

৬.লাকমাছরা 

৭.জাদুকাটা নদী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

 

১.নীলাদ্রি লেক :শহীদ সিরাজ লেক (“নীলাদ্রি হ্রদ” বা “নীলাদ্রি লেক” নামেও পরিচিত) ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের উপজেলা তাহিরপুরে অবস্থিত একটি হ্রদ।মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ সিরাজুল ইসলামের নামানুসারে এই হ্রদের নামকরণ করা হয় শহীদ সিরাজ হ্রদ।

২.বারিক্কা টিলা : বারেক টিলা মূলত বড়গোপ টিলা হিসেবে পরিচিত। একপাশে বাংলাদেশের সীমান্ত অন্যপাশে ভারতের মেঘালয়,খাসিয়া পাহাড় 

৩.ওয়াচ টাওয়ার : ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো টাঙ্গুয়ার হাওড় এর দৃশ্য পর্যালোকন করা যায়। এতো সুন্দর মনোরম দৃশ্য -দূরদূরান্তে পানি র সবুজ হিজল গাছ। 

৪.শিমুল বাগান : শিমুল বাগানের দৃশ্য দেখা দেয় ভিন্ন সিজনে ভিন্ন রূপে। শীত এবং বসন্তে পুরো শিমুল বাগান রক্ত বর্ণ ধারণ করে.চারদিকে লাল আর লাল ফুলে ভরা। আর বর্ষায় সবুজ অভয়ারণ্য। সেখানে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। 

৫.সোয়াম্প ফরেস্ট :টাঙ্গুয়ার হাওড় এ ছোট ছোট অনেক গুলো সোয়াম্প ফরেস্ট দেখা যায়। ভ্রমণ পিপাসুরা সেখানে পানিতে নেমে গোসল ও করে ,ছোট ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। 

৬.লাকমাছরা :লাকমাছরা অত্যন্ত সুন্দর একটি ঝর্ণা। 

৭.জাদুকাটা নদী: বারিক্কা টিলার পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে খাসিয়া পাহাড় থেকে উৎপন্ন মায়ার নদী যাদুকাটা। বর্ষায় ভারতের পাহাড় হতে এ নদী দিয়ে নেমে আসে পাথর, বালু, কয়লা

পূর্ণিমার রাতে হাউসবোটে শুয়ে পূর্ণিমা উপভোগ করা অন্যরকম প্রশান্তি দেয় ,এখন থেকে সূর্যাস্ত ও দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। পানির ওপরে পর্যন্ত সূর্য। 

কিভাবে আসবেন

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ : ঢাকার সায়েদাবাদ ,মহাখালী ,ফকিরাপুল থেকে সিলেট গামী বা সুনামগঞ্জ গামী অনেক বাস পাওয়া যায় ,যেগুলো প্রতিদিন ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যেমন :এনা ,শ্যামলী,হানিফ,মামুন ইত্যাদি। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৮০০ টাকা নন এসি। 

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ: যারা সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যেতে চান তারা কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে যেতে পারবেন। 

সুনামগঞ্জ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওড় : সুনামগঞ্জ নেমে টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়ার অনেক গাড়ি পেয়ে যাবেন। যেতে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। তাহিরপুর থেকে ছোট বড় অনেক নৌকা ও হাউসবোট পেয়ে যাবেন। 

রাতে থাকবেন কোথায় 

টাঙ্গুয়ার হাওরে সাধারণত রাতে থাকার জন্য তেমন কোনো বেবস্থা নেই। হাওরের মাঝখানে হাওর বিলাস নাম একটি কটেজ রয়েছে ,এছাড়া টেকের ঘটে একটি বোর্ডিং আছে। সাধারণত টাঙ্গুয়ার হাওরে সবাই হাউসবোট গুলোতেই থাকে। 

টাঙ্গুয়ার হাওড় এর নৌকা ভাড়া 

টাঙ্গুয়ার হাওড় এ নৌকা ভাড়া অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এবং সেখানে অনেক ধরণের নৌকা আছে ভ্রমণ প্রেমীদের সুবিধার জন্য ,সাধারণ নৌকা থেকে শুরু করে হাউসবোট সব ই আছে। আবার এসব নৌকার ও কিছু বিষয় যেমন নৌকার সুযোগ সুবিধা ,কতদিনের জন্য ভাড়া নেয়া হবে, কি কি বেবস্থা থাকবে,খাওয়া দাবার কেমন বেবস্থা ,রুম এর সুবিধা কেমন ,ওয়াশরুম সুবিধা কেমন আরো অনেক কিছু। শুক্র শনিবার বাদের অন্যান্য দিনে এ সকল বোট এর খরচ অনেকটাই কম থাকে।  সাধারণত একেকটা বোটে ২ দিনের জন্য জনপ্রতি ৬০০০ থেকে শুরু করে ২০০০০ ও আছে। 

খাবার ব্যবস্থা 

টাঙ্গুয়ার হাওড় এ খাবার ব্যবস্থা খুবই ভালো। তাহিরপুরে কিছু  খাবারের দোকান আছে যেখানে খুবই স্বল্প টাকায় অনেক ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। হাওড়ের টাটকা মাছ ,শাক-সবজি,ভর্তা ,হাঁস ,মুরগি ইত্যাদি। আবার নৌকাতেও রান্নার ব্যবস্থা করা যায়। 

 

সর্বোপরি টাঙ্গুয়ার হাওর একটি অসম্ভব সুন্দর জায়গা। ভ্রমণের রস গ্রহণের জন্য ভ্রমণপ্রেমী হিসেবে আমাদের সকলের উচিত দর্শনীয় স্থান গুলো সবসময় পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা। এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা।

ভ্রমণের অনেক উটকো ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্সীর মাদ্ধমে ভ্রমণ করতে দেশের সবচেয়ে ফিমেল ফ্রেন্ডলি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল এজেন্সী Sports Tourism Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ,ভ্রমণকে সুন্দর ও আনন্দদায়ক করায় আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ভিসা ও এয়ার টিকেট জানতে ও সহযোগিতার জন্য ভিজিট করুন আমাদের পেজ :https://www.facebook.com/sportstourismbd
এবং কল করুন : 01820-109 109