
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন বিস্তারিত
নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণে একটি ছোট্ট দ্বীপ। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নিঝুম দ্বীপ ক্যাম্পিং এর জন্য সেরা। একপাশে সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে প্যারাবন ভর্তি এই দ্বীপে প্রতিটি কদমেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি মেলে।বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই চরটি হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চর ওসমান, বাউল্লারচর, কামলার চর, ও মৌলভির চর- এই চার চর নিয়ে পুরো নিঝুম দ্বীপ।
জনবসতি গড়ে উঠার একদম শুরুর দিকে এই দ্বীপের নাম ছিল চর ওসমান ও বাউল্লার চর।
লোকমুখে শোনা যায়, ওসমান নাম একজন প্রথম এখানে বসতি গড়ে । তিনি ছিলেন একজন বাথানিয়া; আর তখন তার নামানুসারেই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল। নিঝুম দ্বীপ এর শুধু সৈকতই নয়, দ্বীপের মাটিও বালুতে চিকচিক করতো। দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে দেখা যেতো বালুর ঢিবি বা টিলার মতো জায়গা।
আর এই কারণেই বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চর নামে ও এই দ্বীপ কে ডাকা হয় । এমনকি এখনও নিঝুম দ্বীপ এর অবস্থান জানার জন্য স্থানীয়দেরকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চরের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হয়। এখানে প্রচুর পরিমানে ইছা মাছ (আঞ্চলিক ভাষায় )/চিংড়ি মাছ পাওয়া যেত তাই এই দ্বীপ ইছামতির দ্বীপ নামেও পরিচিত। হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুম দ্বীপ নামকরণ করেন।
ভ্রমনের স্থান সমূহ :
নিঝুম দ্বীপের বিশেষত্ব হচ্ছে চিত্রা হরিণ ও শীতকালের অতিথি পাখি। একসঙ্গে এতো চিত্রা হরিণ দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। বাজারে,ক্যাম্প সাইটে চিত্র হরিণ গুলো এমন ভাবে থাকে যেন গৃহপালিত পশু।
চৌধুরীর খাল
কমলার দ্বীপ
কবিরাজের চর
মনপুরা দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ
ছোঁয়াখালী
নামা বাজার সৈকত
ভার্জিন আইল্যান্ড
চৌধুরীর খাল: চৌধুরীর খাল মূলত বিকেলে সন্ধ্যার আগে যেতে হয়। চৌধুরীর খাল নেমে বনের মধ্যে ১০/১৫ মিনিট হাঁটলেই হরিনের দলের দেখা মিলবে। একটি রিজার্ভ ট্রলার নিলে মাঝিরায় দেখিয়ে আনবে।
কবিরাজের চর: চৌধুরীর খাল ঘুরে এসে কবিরাজের চর নেমে সেখান থেকে সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। নিঝুম দ্বীপ ছাড়া পাখিদের মেলা বসে পাশের দ্বীপ কবিরাজের চর। এই সময় হাজার হাজার মহিষের পাল ও একসাথে দেখা যায়।
কমলার দ্বীপ:তাজা ইলিশ খাওয়ার জন্য কমলার দ্বীপ সেরা জায়গা। সেখানে কমলার খালে অনেক ইলিশ পাওয়া যায়।
ছোঁয়াখালী: ছোঁয়াখালী তে খুব সকালে হরিণ দেখা যায়।খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে একটা বাইক নিয়ে চলে যেতে পারে ছোঁয়াখালীতে।
নামা বাজার সৈকত:সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এখানকার সেরা জায়গা নামা বাজার সৈকত। নামা বাজার থেকে পায়ে হেটে ১০ মিনিটের মধ্যেই নামা বাজার সৈকতে পৌঁছানো যায়। রাতে বারবিকিউ করতে চাইলেও এখানে করতে পারেন। বারবিকিউ এর জন্যও এ জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।
ভার্জিন আইল্যান্ড:শীতের অতিথি পাখি দেখার জন্য এখানকার আরো একটি দর্শনীয় জায়গা হচ্ছে ভার্জিন আইল্যান্ড বা কুমারী সী বিচ । দমার চরের দক্ষিণে নতুন সৈকতটিই ভার্জিন আইল্যান্ড। এই জায়গাটি সম্পর্কে খুব কম মানুষ ই জানে। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে যেতে পারলে এখানে অনেক ধরণের পাখির দেখা পাবেন।
মনপুরা দ্বীপ: মনপুরা দ্বীপ টি ও খুবই সুন্দর একটি দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপে গেলে সময় পেলে এই মনপুরা দ্বীপ টিও ঘুরে আসতে পারেন।
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সেরা সময়
নিঝুম দ্বীপ এ যাওয়ার সব থেকে উপযোক্ত সময় হচ্ছে শীত ও বসন্তকাল। এ সময় রাস্তাঘাট শুকনা থাকায় যাতায়াত বেবস্থা ভালো থাকে। অক্টোবর থেকে এপ্রিলের ঠিক মাঝামাঝি সময়টাই উপযুক্ত সময় নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের। র এই সময় অতিথি পাখির আগমন ও ঘটে।
এছাড়া বছরের বাকিটা সময় মেঘনা নদী ও সাগর অনেক উত্তাল থাকে।
ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উপায়
নিঝুম দ্বীপ মূলত সাগরের মাঝখানের একটা দ্বীপ। ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার সহজ ও উপভোগ্য উপায় হচ্ছে নৌপথ। ঢাকা সদরঘাট থেকে হাতিয়া যাওয়ার অনেক লঞ্চ পাওয়া যায় যেগুলো বিকেল ৫ তার মধ্যে সদরঘাট ছেড়ে যায়। সারারাত চাঁদের আলো উপভোগ করতে করতে সকালে হাতিয়ার তমিরুদ্দিন ঘাট এ গিয়ে পৌঁছে।তমুরদ্দী ঘাট থেকে ঢাকার ফিরতি লঞ্চ ছাড়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায়। তমরুদ্দি ঘাট থেকে কিছু মাছ ধরার ট্রলার সরাসরি নামার বাজার যায়। এই উপায়ে সহজেই নিঝুম দ্বীপ পৌঁছানো যায়। এছাড়াও ঢাকা থেকে স্থল পথেও যাওয়া যায় নিঝুম দ্বীপ। কিন্তু সেটি অনেক ব্যায়বহুল এবং অনেক সময়ের ব্যাপার।
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ও নামার বাজার সৈকতের কাছেই ভালো মানের কয়েকটি রিসোর্ট আছে।আপনি চাইলে এই রিসোর্ট গুলোতেও অল্প টাকায় থাকতে পারেন। এগুলো ছাড়াও বোন বিভাগের গেস্ট হাউস আছে ,চাইলে সেখানেও রাতে থাকতে পারেন। তবে নিঝুম দ্বীপে সাধারণত সবাই তাঁবুতেই থাকে। শীতের নিঝুম দ্বীপ মানেই ক্যাম্পিং। দ্বীপে ক্যাম্পিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো নামার বাজারের নিঝুম রিসোর্টের পাশের খালটি পেরিয়ে সৈকতের কাছে প্রায় ছয় মাইলের বিশাল খোলা মাঠটি। ক্যাম্পিংয়ে রীতিমত স্বয়ংসম্পূর্ণ নিঝুম দ্বীপ। এখানকার জাহাজমারা বাজারে ক্যাম্পিংয়ের প্রায় সব আইটেমই পাওয়া যায়। এ ছাড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়ও তাঁবু ভাড়া পাওয়া যায়।
নিঝুম দ্বীপে খাবারের জন্য নামার বাজার ই সব থেকে ভালো। সেখানকার খাবার হোটেলগুলো সামুদ্রিক মাছ এবং চিংড়ি ভাজার জন্য বেশ জনপ্রিয়। তবে আপনি মাছ,মুরগি সব ধরণের খাবার ই পাবেন সেখানে। আবার আপনি চাইলে নিজেও ক্যাম্প এলাকাতেই রান্না করে খেতে পারেন। রাতে ক্যাম্পসাইটে বার-বি-কিউ পার্টি আরো বেশি জমজমাট করে নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণকে।
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনা :
সবাই টেন্ট এ থাকব। এক টেন্ট এ দুইজন শেয়ারিং করে। বালিশ ও স্লিপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। মোটামুটি ভালো মানের বাথরুম ও হবে ক্যাম্পসাইটে।
যাত্রার তারিখঃ ??
ফেরার তারিখঃ ??
ভ্রমণের সময়সীমাঃ ৪ রাত ৩ দিন
ভ্রমণ বৃত্যান্তঃ
ডে ০– আমরা সদরঘাট থেকে লঞ্চ এর ডেকে করে যাবো হাতিয়া।
ডে ১- সকালে হাতিয়া নেমে সেখান থেকে নেমে নাস্তা করে ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপ। গিয়ে টেন্ট এ ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে নিব। খেয়ে ঘুরতে বের হব নৌকায় চৌধুরীর খাল, কমলার দ্বীপ, কবিরাজের চর। ঘুরে রাতে ডিনার আর গানবাজনা।
ডে ২- সকালে নাস্তা করবো। বীচ ঘুরে যাব নৌকায় মনপুরা দ্বীপ দেখতে। সেখানেই খাবার খাব দুপুরের। ঘুরে বিকেলে এসে পৌঁছব নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারে আমাদের ক্যাম্প সাইট এ। রাতে থাকবে বার বি কিউ।
ডে ৩- ভোরে উঠে বাইকে করে যাব ছোঁয়াখালি। ফিরে নাস্তা সেরে ৯ টার মধ্যে নৌকায় করে যেতে হবে হাতিয়া।কারণ সেখান থেকে লঞ্চ ছাড়বে ১২ টায়৷ আসব লঞ্চ এর ডেক এ।
৪র্থ দিন সকালে ঢাকায় থাকব।
ইভেন্ট ফি : ৬৫০০ টাকা
বুকিং মানিঃ ৪০০০ টাকা (৪০৮০টাকা বিকাশ খরচ সহ)
ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে চাইলে ৪০৮০ টাকা বিকাশ করে, আপনার নাম,ফোন নাম্বার এবং বিকাশ নাম্বারের শেষ ৩ টি ডিজিট বিকাশ নাম্বারে মেসেজ দিয়ে আপনার সিট কনফার্ম করুন।
বিকাশ নাম্বার:
ইভেন্ট খরচে যা যা খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকছে:
⭕ ৩ দিনের ৯ বেলা মূল খাবার
⭕ লঞ্চের ডেকে যাওয়া ও আসা খরচ(চেয়ার কোচ নিতে চাইলে আরো ১০০০ টাকা যোগ করতে হবে)
⭕অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের খরচ ( নৌকা, ট্রলার ও বাইক)
⭕তাবু, স্লিপিং ব্যাগ ভাড়া ইত্যাদি
যা যা অন্তর্রভুক্ত নয়:
⭕কোনো ব্যক্তিগত খরচ
⭕যাওয়ার দিন রাতের খাবার
কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে-
১. ভ্রমণের সময় যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হই নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করব।
২. অবস্থা পরিপেক্ষিতে যে কোনো সময়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে যেটা আমরা সকলে মিলে ঠিক করব।
৩. সবাইকে একটি বিষয় খুব ভাল ভাবে মনে রাখতে হবে যে স্পট গুলোতে কোনো রকম ময়লা ফেলা যাবে না। সাথে পলিথিন থাকবে, সেখানে ফেলতে হবে। পরে ডাস্টবিনে ফেলা হবে।
৪.স্থানীয় দের সাথে কোনো রকম বিরূপ আচরন করা যাবে না।
৫.নিজের ব্যাগ নিজের বয়ে নিতে হবে। কেউ ব্যাগ টেনে নিবে এরকম মন মানসিকতা রাখা যাবেনা৷
বুকিং মানি জমা দেয়ার পদ্ধতি
ভ্রমণের অনেক উটকো ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্সীর মাদ্ধমে ভ্রমণ করতে দেশের সবচেয়ে ফিমেল ফ্রেন্ডলি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল এজেন্সী Sports Tourism Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ,ভ্রমণকে সুন্দর ও আনন্দদায়ক করায় আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ভিসা ও এয়ার টিকেট জানতে ও সহযোগিতার জন্য ভিজিট করুন আমাদের পেজ :https://www.facebook.com/sportstourismbd
এবং কল করুন : 01820-109 109
**সরাসরি অফিসে এসে বুকিং মানি জমা দেয়া যাবে।(১১৩ পশ্চিম ধানমন্ডি, আরমান খান গলি,ঢাকা ১২০৫)
**** ট্রিপের ৭ দিন আগে ক্যান্সেল করলে টাকা অফেরতযোগ্য
এছাড়া অন্য যেকোনো প্রশ্ন বা যোগাযোগের জন্য নিম্নোক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।
যোগাযোগ:01820-109 109