ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ভ্রমন

চাঁদপুরে এই সুন্দর ছবিটি সংগ্রহীত

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ভ্রমন

চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে চাঁদপুর বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা। ইলিশ উদ্পাদনে ব্যাপকভাবে সমাদৃত চাঁদপুর জেলা। এজন্য এই জেলাকে “ইলিশের বাড়ি” বলা হয়ে থাকে। ইলিশ ছাড়াও চাঁদপুরে আছে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মোহনা। চাঁদপুরে অনেক মানুষ ভ্রমণে যায় যারা এই মোহনা থেকে নৌকা নিয়ে পারি দেয় মেঘনা ও পদ্মার চর।তবে ইলিশের জন্য ই এখনো চাঁদপুর তার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই ইলিশের জন্যই চাঁদপুরে গড়ে উঠেছে তিন ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা।

💠চাঁদপুরে ভ্রমনের স্থান সমূহ

🔸 তিন নদীর মোহনা 🔸ইলিশ চত্বর  🔸রক্তধারা 🔸কালীবাড়ির “ওয়ান মিনিট আইসক্রিম ” 🔸বড় স্টেশন (মাছের আড়ত) 🔸মিনি কক্সবাজার বা মেঘনা পদ্মার চড়

🔸 তিন নদীর মোহনা ও মোলহেড:দৃষ্টিনন্দন এবং ঘুরে বেড়ানোর মতো আকর্ষণীয় একটি জায়গা হলো চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা। এই জায়গাটি খুবই সুন্দর ও মনোরম। এখানে পদ্মা,মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিনটি নদী একসাথে মিলিত হয়।

🔸ইলিশ চত্বর :ইলিশ চত্বর হল চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর শহরে সড়কের মাঝখানে ইলিশ আকৃতির তৈরিকৃত একটি চত্বর।সুস্বাদু ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত চাঁদপুর জেলা। যার কারণেই ইলিশের বাড়ি বলা হয় চাঁদপুর জেলাকে।আর এই খ্যাতি ধরে রাখতে চাঁদপুর জেলার বাস স্ট্যান্ড এবং স্টেডিয়ামের সামনে সড়কের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে ইলিশ চত্বর নামের এই ভাস্কর্য। বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের ইলিশ খাওয়ার জন্য এবং তাজা রূপালী ইলিশ একনজর দেখার জন্য দেশি বিদেশী পর্যটকদের ভিড় জমে চাঁদপুরে।

🔸রক্তধারা:রক্তধারা স্মৃতিসৌধ হলো বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে তৈরি করা একটি স্থাপনা বা স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরে অনেক স্বাধীনতাকামী গণহত্যার শিকার হন। তাদের স্মরণে ২০১১ সালে নির্মিত হয় এ স্মৃতিসৌধ।পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থল চাঁদপুর বড় স্টেশনের মোলহেডে বধ্যভূমিতে অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ’রক্তধারা’।রক্তধারা এক স্তম্ভ বিশিষ্ট এতে ৩টি রক্তের ফোঁটার প্রতিকৃতি দিয়ে বোঝানো হয়েছে রক্তের ধারা। টেরাকোটার মুর‍্যালে আঁকা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি ঘটনাবলীর চিত্র।

🔸কালীবাড়ির “ওয়ান মিনিট আইসক্রিম ” :কালীবাড়ির “ওয়ান মিনিট আইসক্রিম ” একটি ঐতিহ্যবাহী আইসক্রিম। এখানে ১মিনিটে আইসক্রিম তৈরি দেয় বলে এর নাম এ হয়ে যায় ওয়ান মিনিট আইসক্রিম। চাঁদপুরের কালীবাড়ির এই মিষ্টির দুকান টি অনেক পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী। চাঁদপুরে ভ্রমণকারী পর্যটকটরা এর আইসক্রিম এবং মিস্টি খেতে সেখানে যায়।

🔸বড় স্টেশন (মাছের আড়ত):চাঁদপুরে ইলিশ মাছের সবচেয়ে বড় আড়ত হলো বড় স্টেশন ইলিশঘাট। চাঁদপুরের মিঠাপানির রুপালি ইলিশ স্বাদ আর সুঘ্রানের জন্য সারাদেশ জুড়ে বিখ্যাত। এখানে বড় বড় ট্রলার নৌকা করে এখানে প্রতিদিন অনেক অনেক মাছ আসে। বর্ষার শুরুতে ইলিশের চাহিদায় অনেক মানুষ চাঁদপুরে ভ্রমণ আসে। আর এখন থেকে মাছ কিনে নিয়ে যায়।

🔸মিনি কক্সবাজার বা মেঘনা পদ্মার চড় :মিনি কক্সবাজার বা মেঘনা পদ্মার চড়ে যেতে হলে মোলহেড বা বড় স্টেশন থেকে নৌকা নিয়ে নদীতে নৌভ্রমণ করতে হবে। পদ্মা,মেঘনা ও ডাকাতিয়া এই তিন নদীর মোহনা পার করে চড়ে যেতে হয়। চড়ের পুরোটা জায়গা বালি ও অনেক ধরনের উদ্ভিদ থাকে। ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে গিয়ে নদীতে নেমে গোসল ও খেলা ধুলা করে। এই চর দেখতে অনেকটা কক্সবাজারের বিচ এর মতো মনে হওয়ায় অনেকে এটিকে মিনি কক্সবাজার ও বলে।

💠 চাঁদপুরে যাওয়ার উপায়

ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৭ তা থেকে ১ ঘন্টা পর পর চাঁদপুরের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এম ভি সোনারতরী ,এম ভি বোগদাদিয়া ,এম ভি আল বোরাক ,এম ভি ঈগল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ও চাঁদপুরের উদ্দেশে সকাল থেকে ই বাস ছেড়ে যাই। এছাড়াও ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে করেও চাঁদপুরে যাওয়া যাই। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে লাকসাম ট্রেনে করে এবং সেখান থেকে সিএনজি বা অটো করে চাঁদপুর।

চাঁদপুরে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

চাঁদপুরে থাকার জন্য মোটামোটি ধরণের কিছু হোটেল পাওযা যায়।
খাবারের জন্য চাঁদপুরে বেশ কিছু খাবার হোটেল পাওয়া যাই ,সেখানে ইলিশ কিনে এনে দিলে তাদের কাছ থেকে বাকি খাবার নিলে তারা ইলিশ ভেজে রানা করে খাওয়াই। বা তাদের কাছেও ইলিশ সহ বিভিন্ন ধরণের খাবার মেন্যু পাওয়া যায় সুলভ মূল্যে।

চাঁদপুরে ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনা 

সকাল ৭ টায় ঢাকা থেকে লঞ্চে রওনা চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে। সকাল ১০:২০ এর মধ্যে চাঁদপুর নেমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করেনা নিতে পারবেন
এরপর চলে যাবেন ইলিশ চত্বরে, ইলিশ চত্বর ঘুরে ওখান থেকে চলে যাবেন রক্তধারা, রক্তধারা ঘুরে রিজার্ভ বোটে করে চলে যাবেন মিনি কক্সবাজার। ওখান থেকে দুপুরে ব্যাক করে মিয়াজি বাড়ি মসজিদে নামাজ পরে গরম গরম ভাত, ইলিশ ভাজা, লেজ ভর্তা, মরিচ ভর্তা😋 দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে তিন নদীর মোহনায় বসতে পারেন সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে । চাইলে বিকালে ওয়ান মিনিট আইসক্রিম খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন ।আবার ও লঞ্চে করে রওনা দিয়ে রাত ৮ টার মধ্যে ঢাকাই থাকতে পারবেন।

💠চাঁদপুরে ভ্রমন খরচ ও ট্যুর প্যাকেজে যা যা থাকছে :

 

 ৭৯৯ টাকা (প্রতি জন) ,{চেয়ার কোচ নিলে আসা যাওয়া আরো ৩০০ টাকা যোগ করতে হবে}

🍁ঢাকা-চাঁদপুর -ঢাকা লঞ্চ এর ডেক ভাড়া

🍁ট্রলারের যাবতীয় খরচ (মিনি কক্সবাজার)

🍁সকালের নাস্তা

🍁দুপুরের খাবার (ইলিশের ভুরিভোজ)

🍁সকল ধরনের লোকাল ট্রান্সপোর্ট।

 

কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে-

১. ভ্রমণের সময় যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হই নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করব।

২. অবস্থা পরিপেক্ষিতে যে কোনো সময়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে যেটা আমরা সকলে মিলে ঠিক করব।

৩. সবাইকে একটি বিষয় খুব ভাল ভাবে মনে রাখতে হবে যে, স্পট গুলোতে কোনো রকম ময়লা ফেলা যাবে না। সাথে পলিথিন থাকবে, সেখানে ফেলতে হবে। পরে ডাস্টবিনে ফেলা হবে।

৪.স্থানীয় দের সাথে কোনো রকম বিরূপ আচরন করা যাবে না।

বুকিং মানি জমা দেয়ার পদ্ধতি

ভ্রমণের অনেক উটকো ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্সীর মাদ্ধমে ভ্রমণ করতে দেশের সবচেয়ে ফিমেল ফ্রেন্ডলি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল এজেন্সী Sports Tourism Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ,ভ্রমণকে সুন্দর ও আনন্দদায়ক করায় আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ভিসা ও এয়ার টিকেট জানতে ও সহযোগিতার জন্য ভিজিট করুন আমাদের পেজ :https://www.facebook.com/sportstourismbd
এবং কল করুন : 01820-109 109

ইনটারন্যাশনাল ও ডোমেস্টিক যেকোনো ধরণের ভ্রমণ প্যাকেজ পেয়ে যাবেন আমাদের কাছে।

**সরাসরি অফিসে এসে বুকিং মানি জমা দেয়া যাবে।(১১৩ পশ্চিম ধানমন্ডি, আরমান খান গলি,ঢাকা ১২০৫)

**** ট্রিপের ৭ দিন আগে ক্যান্সেল করলে টাকা অফেরতযোগ্য

এছাড়া অন্য যেকোনো প্রশ্ন বা যোগাযোগের জন্য নিম্নোক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

যোগাযোগ:01820-109 109

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *