থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া লাউস ভিয়েতনাম ভ্রমণ বিস্তারিত

থাইল্যান্ড,কম্বোডিয়া,লাউস,ভিয়েতনাম ভ্রমণ বিস্তারিত

থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া লাউস ভিয়েতনাম

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার অন্যতম দেশ থাইল্যান্ড,ভিয়েতনাম,লাওস,কম্বোডিয়া। অসম্ভব সব প্রাকৃতিক নিদর্শনে ভরপুর এই দেশ গুলো কাছাকাছি থাকায় এক ভ্রমণ পরিকল্পনাতেই এই চারটি দেশে খুব সহজে ভ্রমণ করা যায় এবং স্বল্প খরচের মধ্যে। প্রতিটা ভ্রমণপ্রেমীর স্বপ্ন থাকে একবার হলেও থাইল্যান্ড ভ্রমণ করার।

থাইল্যান্ড,ভিয়েতনাম,কম্বোডিয়া,লাউস ভ্রমণ এর জন্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন হবে ভিসা। তবে প্রথমেই আপনাকে নিতে হবে থাইল্যান্ড এর ভিসা যেটা বাংলাদেশ থেকেই নেয়া যাবে ,এবং একই ডকুমেন্ট দিয়ে দেশ থেকেই অনলাইন আবেদন করে ভিয়েতনাম এর ভিসা এপ্রোভাল নেয়া যাবে। থাইল্যান্ড গিয়ে কম্বোডিয়ার ভিসা এপ্লাই করে একদিনেই ভিসা হাতে পেয়ে যাবেন। এবং কম্বোডিয়া থেকে লাউসের ভিসা পেয়ে যাবেন মাত্র ২ দিনে ।

গন্তব্য :থাইল্যান্ড,কম্বোডিয়া,লাউস,ভিয়েতনাম

দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে চাইলে ভ্রমণ পরিকল্পনা একটু সময় নিয়ে করা উত্তম। এতে করে ভ্রমণ খরচ অনেকাংশে কমে যায়।

থাইল্যান্ড

প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্যে ঘেরা দক্ষিণ এশিয়ার ভ্রমণ বান্ধব একটি দেশ হলো থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডকে ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য ও বলা হয়ে থাকে। থাইল্যান্ড এর উল্ল্যেখযোগ্য কিছু ভ্রমণ সাথে হলো – ফোকেট,ক্রাবি,পাতায়া,ব্যাংকক। থাইল্যান্ড এর ব্যাংকক থেকে প্রায় ৮৪৫ কিমি দূরে নীলাভ পানির বিচ ফুকেট। অসম্ভব সুন্দর এই বিচ পর্যটকদের তার দিকে আকর্ষিত করে। কিন্তু ফুকেটে খরচ অতিরিক্ত হয়।
থাইল্যান্ড এর পশ্চিম উপকূলে ফাঙ্গা ও ট্রাং আইল্যান্ডের মাঝে ক্রাবি নদীর তীরে অবস্থিত এই ক্রাবি শহর ,যা ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে খুবই পছন্দের একটি জায়গা।
থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য সাধারণত ২থেকে ৩ দিন ই যথেষ্ট। বাংলাদেশিদের জন্য সুকুম্বির এলাকায় থাকায় ভালো ,কারণ এখানে বাংলা খাবার ও বাঙালি মানুষ দুই ই পাওয়া যায়। ভ্রমণের শুরুটা করতে পারেনা শহরের প্রধান হাইলাইট বা অবশ্যই দেখার মতো একটি জায়গা যা হলো ১৭৮২ সালে নির্মিত হওয়া গ্রান্ড প্যালেস ,যা ১৫০ বছরের ও বেশি থাই কিংয়ের বাড়ি ছিল। প্রাসাদ কমপ্লেক্সে পান্না বুদ্ধের মন্দিরের মতো বেশ কয়েকটি মনোরম ভবন রয়েছে। এই বিস্তৃত অঞ্চলটিকে ঘুরে দেখাই আপনাকে দর্শনীয় থাই আর্কিটেকচার এবং প্রাণবন্ত রঙের ধারণা দেবে।

আরেকটি অবশ্যই দর্শনীয় স্থান হলো ওয়াট ফো মন্দির, যেখানে চিত্তাকর্ষক পুনর্বিবেচনা বুদ্ধ রয়েছে । এটি বুদ্ধের অবস্থান নির্বান এবং পুনর্জন্মের সমাপ্তির প্রতিনিধিত্ব করে এবং থাই মানুষের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
আপনি চাইলে ব্যাংককের সবচেয়ে বড় বাজার এবং যা বিশ্বের বৃহত্তম মার্কেট হিসেবে খ্যাত বিখ্যাত চতুচাক উইকেন্ড মার্কেটেও ঘুরতে পারেন। এখানে অসংখ্য দোকান এবং পণ্য সামগ্রী পেয়ে যাবেন।

তারপর চলে যেতে পারেন ব্যাংককের পাতায়া। ব্যাংকক থেকে পাতায়ার দূরত্ব প্রায় ১০০ কিমি। এখানে যাওয়ার জন্য বাস বাবা মাইক্রো পেয়ে যাবেন তবে বাস এ সময় এবং অর্থ ২ ই বাঁচবে। পাতায়া তে অনেক আকর্ষণের স্থান ও জিনিসপত্র আছে ,যা ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের খুব সহজেই আকর্ষিত করে। পাতায়াতে অনেক বীচ এক্টিভিটিস ও আছে।

ভিয়েতনাম

থাইল্যান্ড ঘুরে শেষে ২য় দেশ ভিয়েতনাম যাবেন। ভিয়েতনামের মানুষ ইংলিশ খুবই কম জানে। তাই ভিয়েতনাম ভ্রমণ সহজ ও সুন্দর করতে এজেন্সির মাদ্ধমে ভিয়েতনাম ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত। ভিয়েতনামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,এর সুসংহত পর্যটন ব্যবস্থা এবং এর আবহাওয়া পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ভিয়েতনামে পৌঁছানোর পর রাতে হোটেলে রেস্ট নিয়ে পরের দিনটি ডে ট্যুরের জন্য বরাদ্দ রাখতে পারেন। ঘুরে দেখতে পারেন বেশ কিছু লাইমস্টোন পাহাড়,কেভ সহ আরো অনেক কিছু। ৫০০ সিঁড়ি বেয়ে ৩৯৭ফিট উঁচুতে উঠে ড্রাগন এর দেখা পেতে পারেন ড্রাগন পাহাড়ে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে গিয়ে প্রতিটা স্টোরে পেয়ে যাবেন অসম্ভব সুন্দর সব ভিউ। ড্রাগন পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের ভিউ টা অসাধারণ। সেখান থেকে এসে পরিকল্পনায় রাখতে পারেন সাইক্লিং একটিভিটিস।সাইক্লিং করেই চলে যেতে পারেন কিংকং এর এলাকা এনশিয়েন্ট ক্যাপিটাল হুয়া এর মধ্যে। সেখান থেকে চলে যেতে পারেন ট্রাং এন বোট ট্যুরে ,যেখানে ব্যাম্বো বোটে কায়াকিং করতে পারবেন।
ভিয়েতনাম অবশ্যই ভ্রমণ জায়গা হলো হালং বে। হালং বে তে সাধারণত ক্রুজ ভ্রমণ হয়ে থাকে। সেজন্য আপনাকে একটি ক্রুজ এর প্যাকেজে বুকিং করতে হবে। ক্রুজ প্যাকেজে গুলো সাধারণত ২ দিন ১ রাতের হয়ে থাকে আবার ডে টুর ও হয়ে থাকে। ক্রুজে ভ্রমণকালীন সময় বিভিন্ন এক্টিভিটিস যেমনঃ হাইকিং,ডাইভিং কায়াকিং থেকে শুরু করে আরো অনেক একটিভিটিস।
এছাড়াও ভিয়েতনামে আরো অসংখ্য ভ্রমণ স্থান রয়েছে। ভিয়েতনাম নিতান্তই অসম্ভব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান। ভিয়েতনাম কে বিশ্ব ঐতিহাসিক ভ্রমণ স্থান হিসেবে ঘোষণা দেয়া হইয়েছে। ভিয়েতনাম ভ্রমণের জন্য সর্বনিম্ন ৫/৭ দিন সময় রাখা উচিত।

কম্বোডিয়া

ভিয়েতনাম ভ্রমনের পর চলে আসুন কম্বোডিয়া। কম্বোডিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ। তবে কম্বোডিয়া ঢুকতে হলে আপনাকে অবশ্যই ১০০০ ডলার দেখাতে হবে ক্যাশ । নয়তো কোনো ভাবেই আপনাকে কম্বোডিয়ার প্লেনে উঠতে দিবেনা।বোর্ডিং পাশের আগেই হোটেল বুকিং ,এয়ার টিকেট এছাড়া ১০০০ ডলার আছে কিনা সমস্ত কিছু চেক করা হবে।
আংকর ওয়ত কম্বোডিয়ার গৌরবময় ইতিহাসের স্মৃতি ধারন করে আছে, দেশটি ঔপনিবেশিকতা, ইন্দোচীন যুদ্ধ এবং খেমাররুজ শাসন দ্বারা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি। দরিদ্রতম দেশ হলেও পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। এখানে অনেক গুলো ঐতিহাসিক ও অনেক পুরোনো ওয়াট বা মন্দির রয়েছে। সেই মন্দির গুলো দেখতে সুন্দর ও সেগুলো ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য। কাম্বোডিয়া তে ঘুরার জন্য ২/৩ দিন সময় যথেষ্ট।কম্বোডিয়ার রাজধানী নেমপেন এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে রিভার সাইড। এছাড়াও রয়েছে ন্যাশনাল মিউজিয়াম , Wat phonm Historical Side , গ্রীন টেম্পল,মাঙ্কি টেম্পল এছাড়াও রয়েছে Siem Reap এর Angkor Wat ,পাব স্ট্রিট ,নাইট মার্কেট ,ফ্লোটিং ভিলেজ।

লাওস

লাওস দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র যার চারপাশে ঘিরে আছে থাইল্যান্ড ,কম্বোডিয়া,চীন,মিয়ানমার এবং ভিয়েতনাম ।লাওস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা একটি দেশ। থাইল্যান্ড ভিয়েতনাম ঘুরার পর লাওস ভ্রমন না করলে অনেক কিছু বাকি থেকে যাওয়ার মতো হয়ে যায়। লাওসে রয়েছে মেকং ভ্যালির অনেক উপরে বোলাভেন প্লাটো। উদ্ভিত ও প্রাণীর দেশ হওয়ায় চারদিক জুড়ে সবুজের অস্তিত্ব। রয়েছে অনেক গুলো বিশেষ বিশেষ ওয়াটারফল। কফি চাষের জন্য লাওস বিখ্যাত। রোবাস্তা এবং এরাবিকা এর কফি চাষের প্লান্টেশন এখন থেকে ই।
কম্বোডিয়া থেকে খুব সহজেই বায় রোডে লাওস ভ্রমন করা যায়।

 

থাইল্যান্ড,কম্বোডিয়া,লাউস,ভিয়েতনাম ভ্রমণের সম্ভাব্য বর্ণনা :

থাইল্যান্ড,কম্বোডিয়া,লাউস,ভিয়েতনাম ভ্রমণ এর জন্য আমাদের প্রথম গন্তব্য হবে থাইল্যান্ড। কারণ থাইল্যান্ড থেকে যেহেতু কম্বোডিয়ার ভিসা করতে হবে তাই ভ্রমণের শুরু টা থাইল্যান্ড থেকে ই করা ভালো। ব্যাংককে নেমে প্রথম দিনে তেমন কোনো একটিভিটিস নেই তবে চাইলে আপনি নিজ খরচে আশেপাশের ঘুরে দেখতে পারেন। ব্যাংককে নেমেই একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে যেতে পারেন রয়েল এম্বাসি অফ কম্বোডিয়ারতে। সেখানে গিয়ে আপনি কম্বোডিয়ার ভিসা এপ্লাই করে নিবেন ,সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টার মধ্যে ই হাতে ভিসা পেয়ে যাবেন।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুরু হবে ভ্রমণ। ফোকেট(ফোকেট ভ্রমণের জন্য আলাদা খরচ লাগবে যা প্যাকেজের সাথে সংযোক্ত না ),ক্রাবি,পাতায়া,ব্যাংকক সব গুলো জায়গা আমরা একে একে ঘুরে দেখবো।

থাইল্যান্ড ২থেকে ৩ দিন ঘুরা শেষে আমরা চলে যাবো ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামে আমাদের প্রায় ৬-৭ দিনের ট্যুর থাকবে।হ্যানয়,হালং বে সহ আরো অনেকগুলো ভ্রমণ স্থান পর্যায়ক্রমে ঘুরে দেখবো।

ভিয়েতনাম থেকে আমরা চলে যাবো কম্বোডিয়া।এবং কম্বোডিয়া তে আমরা ২/৩ দিনের মধ্যে ঐতিহাসিক ভ্রমণ স্থান গুলো ঘুরে দেখবো।
এবং কম্বোডিয়া থেকে লাওস ভ্রমণ সহজ হয়। তাই এই ভ্রমণের আমাদের সর্বশেষ গন্তব্য হবে লাওস। লাওসে আমরা ২ দিন থেকে আবার ব্যাংকক ফায়ার এসে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাই করবো।

থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া লাউস ভিয়েতনাম ট্যুর প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে :

ভ্রমণের অনেক উটকো ঝামেলা এড়াতে ট্রাভেল এজেন্সীর মাদ্ধমে ভ্রমণ করতে দেশের সবচেয়ে ফিমেল ফ্রেন্ডলি ও বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল এজেন্সী Sports Tourism Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ,ভ্রমণকে সুন্দর ও আনন্দদায়ক করায় আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ভিসা ও এয়ার টিকেট জানতে ও সহযোগিতার জন্য ভিজিট করুন আমাদের পেজ :https://www.facebook.com/sportstourismbd
এবং কল করুন : 01820-109 109

**সরাসরি অফিসে এসে বুকিং মানি জমা দেয়া যাবে।(১১৩ পশ্চিম ধানমন্ডি, আরমান খান গলি,ঢাকা ১২০৫)

**** ট্রিপের ৭ দিন আগে ক্যান্সেল করলে টাকা অফেরতযোগ্য

এছাড়া অন্য যেকোনো প্রশ্ন বা যোগাযোগের জন্য নিম্নোক্ত নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

যোগাযোগ:01820-109 109

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *